বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
শিরোনামঃ
ঈশ্বরদীতে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল চাপায় পথচারী নিহত ঈশ্বরদীতে হাট-বাজারের ইজারা আদায় নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্ব: নিরাপত্তার শঙ্কায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, দেশে ১০ জুলাই ঈদুল আযহা উদযাপিত হবে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে দাদাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত সৌদিআরব সহ মধ্য প্রাচ্যে ঈদুল আযহা পালিত হবে ৯ জুলাই, বাংলাদেশে হতে পারে ১০ জুলাই আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ আর নেই ঈশ্বরদীতে পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে স্কুল ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু ঈশ্বরদীর সন্তান রামিসা আলমগীর সিজদা’র নৃত্যের প্রতিভা এটিএন নিউজে প্রচারিত হবে আজ  পদ্মা সেতু পারাপারে যাত্রীদের দায়িত্বশীল হতে হবে…… ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত সহ ১৯ মামলার আসামী জাকারিয়া পিন্টু গ্রেপ্তার

আমরা মুখ লুকানো বুদ্ধিজীবী

আলাউদ্দিন আহমেদ (সিনিয়র সাংবাদিক) / ২৩৩ বার পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:৪২ অপরাহ্ণ
ছবি: লেখক (সিনিয়র সাংবাদিক) আলাউদ্দিন আহমেদ

সমাজে নানান চিন্তা-ভাবনা, বিভিন্ন পেশা আর কর্মজীবন পরিচালনা করার অসংখ্য মানুষ থাকবেন এটাই স্বাভাবিক ও চিরায়ত নিয়ম।

পেশা ভেদে ও ভিন্ন ভূমিকার কিছু মানুষের কারনে জাতি সঠিক পথে এগিয়ে চলার দিকনির্দেশনা পায়। এ ধরনের মানুষদের অগ্রসর চিন্তার জন্য তারা সমাজে স্মরনীয়-বরনীয় হয়ে ওঠেন। এঁরাই বুদ্ধিজীবী। তারা হন সাহসি, সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার দৃঢ়তা থাকে তাদের মধ্যে।

আমরা স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তীতে রয়েছি। মুক্তির অর্ধশত বছর খুব একটা কম সময় নয়। একটি স্বাধীন দেশে নবজাগরণের জন্য ফেলে আসা এই পঞ্চাশ বছর ছিল গুরুত্বপূর্ন। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে যে ওলোট-পালোট হলো তার খেসারত জাতিকে দিতে হয়েছে অনেকদিন যাবত। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের নির্মম হত্যাযজ্ঞ পুরো বাঙালি জাতিকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে তোলে। এর সাথে যুক্ত হয় আরো অনেক রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। এভাবে লাখো সচেতন মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়।

সুষ্ঠু কোন গনতান্ত্রিকধারা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় বিভিন্ন শাসনামলে জাতির চোখ বলে অভিহিত বুদ্ধিজীবীরাও দৃশ্যত অকেজো হতে শুরু করে। তারা এক ধরনের বিবেকহীন কৌশল অবলম্বন করে ইনিয়ে-বিনিয়ে বলা আর লেখা শুরু করে।

পঁচাত্তর পরবর্তীতে আমাদের অনেককিছুই দেখার সুযোগ হয়েছিল। তখন সংবাদপত্র কম ছিল। যা প্রকাশ হতো তাও ছিল ঢাকা কেন্দ্রিক। মফস্বলের কিছু জেলা শহরে গুটিকয়েক আঞ্চলিক সংবাদপত্র প্রকাশ হতো নানান সমস্যার মধ্যে।

দীর্ঘদিন অধিকাংশ সংবাদপত্রে সত্য লেখা প্রায় বন্ধ ছিল। বঙ্গবন্ধু, জাতিরজনক এসব শব্দ ব্যবহার হতোনা। জয়বাংলা বলা ছিল মহাপাপ। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলা আর লেখা ছিল অতিঝুঁকির ব্যাপার। এই ধারাটি ক্রমাগত ঢুকিয়ে দেয়া হয় শিক্ষিত শ্রেনীর মধ্যে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারি দলগুলো বাদে যারা যখন ক্ষমতায় এসেছে তারাই ওই ধারাটিই বিকশিত করেছে।

পাঠ্যসুচী পরিবর্তন, অসুস্থ্য ছাত্র রাজনীতি, পরিকল্পিত রাজনৈতিক বক্তব্য ইত্যাদির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস না দিয়ে বিভ্রান্তিকর বিবরণ তুলে ধরা হতো। এভাবে চলেছে দীর্ঘ একুশ বছর। এরপর মুক্তিযুদ্ধের দল আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে এক টার্ম তারপর আবার বিএনপি জোট ক্ষমতায় আসে। সর্বশেষ আওয়ামীলীগ আবার ক্ষমতায় ফিরে একটানা এক যুগের বেশি চলছে তাদের কার্যক্রম।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্ককুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার যাত্রা শুরু করে।

১৯৯৬ সালের ২৩ জুন শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সে বছরের ১২ জুনের সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।

২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। শেখ হাসিনা বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে রাজনৈতিক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরে সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে।

প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর ওই সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার টানা দ্বিতীয়বারের মতো যাত্রা শুরু করে।

এছাড়া ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি সরকার গঠন করে। এই সরকার এখনো চলামন রয়েছে।

এই বর্ননার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে একটানা তের বছর ক্ষমতায় থাকা মুক্তিযুদ্ধের দল আওয়ামীলীগ অনেক সফলতার উদাহরণ তৈরি করেছে এটা বলা যায়। তবে পাশাপাশি মূল্যায়ন করতে গেলে অবকাঠামো উন্নয়নের অপরদিকটি খুব একটা উজ্জল নয়। বিশেষ করে সাংস্কৃতির চর্চার বন্ধাত্ব নতুন প্রজন্মকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। শিক্ষিতদের মধ্যে দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী তৈরির কোন উদ্যোগ কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে দেখা যায়না।

মফস্বলের অসংখ্য কলেজে বহু সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি বড় অংশের নিয়োগ হয়েছে অর্থের বিবেচনায়, যোগ্যতার মূল্যায়নে নয়। ফলে যারা ভবিষ্যত প্রজন্মের মধ্যে সংস্কৃতি বিকশিত করবেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দেবেন. আলোকিত করে গড়ে তুলবেন তাদের মধ্যেই বাস্তবে এসব শিক্ষা নেই। কোনটা বলা উচিত, কোনটা করা উচিত এ ধরনের অসংখ্য শিক্ষকের মধ্যে বাস্তবে তা খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টকর। ফলে এই দায়ভার বর্তায় ক্ষমতাসীন নিয়োগ কর্তাদের উপর। তারা নিজের চিন্তা করেছেন, জাতির ভবিষ্যত চিন্তা করেননি।
নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষিত সমাজে এক ধরনের সুবিধাবাদিতা লক্ষ্য করা যায়। এরা মুখ লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করেন। ভাবটা এমন যেন অন্যদিকে যা হয় হোক, আমি ভাল থাকলেই তো হয়। এরা অনেকটাই মরুর দেশের উট পাখির মত।

যখন মরুভূমিতে বালুঝড় ওঠে তখন বোকা উট পাখি বালু সরিয়ে সেই গর্তে নিজের মুখ লুকিয়ে রেখে ভাবে; যেহেতু সে ঝড় দেখতে পাচ্ছেনা, সুতরাং ঝড়ও তাকে দেখতে পাবেনা। ফলে তার কিছুই হবেনা। কিন্তু এভাবে থাকতে থাকতে ঝড়ে বালু উড়ে তাকে চাপা দিয়ে দেয়। এক সময় তার মৃত্যু ও সলিল সমাধি হয়ে যায়।

আমাদের একশ্রেনীর বুদ্ধিজীবীর আজ তেমনই অবস্থা হয়েছে। শানিত বিবেকের যারা কিছু ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেন তাদেরকে সহযোগিতা করার মানসিকতাও এদের মধ্যে দেখা যায়না। ফলে প্রকৃতরা ঝিমিয়ে পড়ছেন। চারিদিকের অসুস্থ পরিবেশে তারা খাপ খাইয়ে চলতে পারছেননা। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেয়ার দায়িত্ব ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দের। তাদের উদ্যোগেই সকল ক্ষেত্র থেকে ভালদের এগিয়ে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Bengali Bengali English English Russian Russian
error: Content is protected !!
Bengali Bengali English English Russian Russian
error: Content is protected !!