রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
শিরোনামঃ
রায়পুর মানব কল্যাণ সংস্থার  ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত  জীবনের জয়গান মানব কল্যান সংস্থার উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ ক্লাব আইজিয়ান এর উদ্যোগে ইফতার মহফিল অনুষ্ঠিত  আওয়ামীলীগ হত্যায় উৎসাহী দল– ঈশ্বরদীতে রুহুল কবির রিজভী  ঈদ উপলক্ষে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের বিশেষ মহড়া  ঈশ্বরদীতে শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান মরিয়ম বেগম ।। বুবুর চোখে জল।। বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, প্রেমিক সেলিম কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব ২০৪১ সালের আগেই পাবনা স্মার্ট জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পাবে- রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার 

‘একটি জনপদ ও মুলধারার সংবাদকর্মী’

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৩১ বার পঠিত
আপডেট : সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ

আলাউদ্দিন আহমেদ:- প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার একটি উপজেলা ঈশ্বরদী । আমাদের প্রিয় জন্মস্থান প্রাণের জনপদ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এতে কোন সন্দেহ নেই । কি নেই এখানে আছে দেশের আখ গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান কার্যালয় , আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র , ডাল গবেষণা কেন্দ্র , আছে বিমানবন্দর ( যদিও এখন বন্ধ ) , ইপিজেডসহ অনেকগুলো অটোরাইচ মিল , বহুসংখ্যক সাধারন রাইচ মিল , অনেক ছোটবড় কারখানা ।

সবচেয়ে আলোচিত রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে । এটাকে ঘিরে পাকশী ইউনিয়নের আমূল পরিবর্তন হচ্ছে । সবমিলিয়ে মানুষের কর্মসংস্থান বেড়েছে , অর্থনৈতিক কর্মচঞ্চলতায় সারাদিনই ব্যস্ত থাকে ঈশ্বরদী উপজেলার মানুষ ।

শিল্পের বাইরেও এই উপজেলায় গর্ব করার মত কৃষি উৎপাদন রয়েছে । শাক – সব্জী , ফলমূল প্রতি মৌসুমে রাজধানী ঢাকায় যায় ট্রাকভরে । লিচুর সময় বাইরে থেকে আগত পাইকারি ব্যবসায়ীদের পদভারে মুখরিত থাকে গ্রামগুলো । সময়টি যেন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে । আত্মীয় স্বজনের আনাগোনা বাড়ে গ্রামে । উপরের সামান্য বর্ননায় আমাদের এই প্রিয় জনপদের গুরুত্ব কিছুটা তুলে ধরলাম এই কারনে যে , একটি এলাকার মানুষের কর্মচঞ্চলতা যত বাড়বে ততই বাড়বে সংবাদকর্মীদের দায়িত্ব ।

কর্মজীবী মানুষের গতির সাথে অন্যান্য সেক্টরের মত মিডিয়া জগতও গতিশীল হবে এটাই স্বাভাবিক । এখন তো সেই আগের মত বাইসাইকেল নিয়ে মেঠোপথ ধরে ছুটতে হয়না গ্রাম থেকে গ্রামে । গ্রামে – গ্রামে পাকা রাস্তা যদিও এখন অনেক রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে । তারপরও বাহন বেড়েছে । সিএনজি , অটোরিক্সা সবই হাতের কাছে পাওয়া যায় । সুতরাং মিডিয়াকর্মীদের এখন চলাচল করতে কোন অসুবিধা হয়না । এছাড়াও অধিকাংশের হাতে হাতে মটরসাইকেল , দামি মোবাইল তো আছেই । সহজ হয়ে গেছে তথ্য সংগ্রহ ।

ইউনিয়ন পর্যায়ে ভাল নির্ভরযোগ্য সোর্স থাকলে শহরে বসেই খবর পাওয়া কঠিন কিছু নয় । ফলে সাধারন নিউজের জন্য ঘটনাস্থলে যেতে হয়না । তবে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরিতে অবশ্যই সরেজমিন পর্যবেক্ষন করলে তা পাঠকদের কাছে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা সহজ হবে । যদিও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এখন হারাতে বসেছে । নেতাদের নিউজ , থানার নিউজে আমরা ব্যস্ত সময় পার করি অনেকে । ফলে শেকড়ের খবর তুলে আনার যে সাংবাদিকতা তা থেকে আমরা পিছিয়ে পড়ছি ।

নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত এই ধারাটি বেশ সক্রীয় ছিল । সাংবাদিকতায় মূলধারা একটি কথা প্রচলিত আছে । কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা , নীতি – আদর্শ আর সততার পেশাদারিত্ব না থাকলে মূলধারা দাবি করা কি আদৌ উচিত ? একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যিনি যোদ্ধা ছিলেন ; কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তীতে তিনি জোতদার , দুর্নীতিবাজ হয়ে উঠলেন তাহলে কি আমরা তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা বলতে পারি- ? তিনি তো মূল চেতনা থেকেই সরে গেছেন । সুতরাং তাকে সংশ্লিষ্ট তালিকা থেকেই বাদ দেয়া উচিত । কিন্তু যখন মুল জায়গায় পচন ধরে তখন অন্য সেক্টরগুলোও নষ্ট হয়ে যায় । একই সাথে মুলধারার সাংবাদিকতাও সেই ধরনের । মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর সততার পেশাদারিত্ব ছাড়া সেটা দাবি করা ঠিকনা ।

আমাদের দেশের অর্থনীতি জনকল্যাণমুখি করতে মূল ভূমিকা রাখবেন তো রাজনীতিবিদরা । অর্থাৎ সব সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক নেতাদের সততার সাথে সঠিক ভূমিকার বিকল্প নেই । কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু দুর্নীতি বন্ধ করতে অনেক কঠিন ভূমিকা রেখেছিলেন । সপরিবারে তাঁকে হত্যার পর খুনিরা আবার সর্বত্র বিশৃংখলা তৈরি করে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থায় গোঁজামিল পদ্ধতি চালু করে । দীর্ঘদিন সেই ধারা চলছে ।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আবারো অপকর্মকারীদের লাগামটানার অভিযান পরিচালনা করছেন । নিজের দলের কেউ অপরাধ করলেও তাকে ছাড় দিচ্ছেননা । সম্প্রতি এ ধরনের অনেকগুলো উদাহরণ তৈরি হয়েছে । এটা ভাল দিক । রাজধানী থেকে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন অপকর্মে যারা জড়িত , শতশত কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করছে , দেশে আয়েশি জীবনযাপন করছে , সেকেন্ড হোম বানিয়ে রেখেছে বিদেশে তারা কিন্তু মিডিয়া সেক্টরকেও বিতর্কিত করতে অনেক সংবাদকর্মীকে কিনে ফেলছে । একটা শ্রেণী তৈরি হয়ে গেছে । এরা সুবিধাবাদী শ্রেনী । এরা দালালি ও তোষামোদি করে অপকর্মকারীদের সহায়তা করে চলেছে ।

এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা মুলধারার সাংবাদিকতাকে ধরে রেখে কাজ করার চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধে ওই সুবিধাভোগীরা নানান কায়দায় অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের নীলনকশা প্রনয়ন করতেও দ্বিধা করছেনা । সম্প্রতি দেশের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের শিকার হয়ে কারাভোগ করছেন । প্রকৃত তদন্ত হলে দেখা যাবে এসবের পিছনে ওই সুবিধাভোগী সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে ।

মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সংবাদকর্মীদের উল্লেখিত বিষয়গুলো মাথায় রেখেই কাজ করতে হয় । এই কাজটি একেবারে সহজ নয় । সিন্ডিকেট ভাঙ্গার জন্য যে মনোবল ও মুলধারার মানসিকতা থাকা দরকার সেটা কতটুকু আমরা ধারন করি সেটা ভাববার বিষয় । আর্থিক সুবিধা ‘ এখন একটি প্রভাবশালী ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে । এখান থেকে বের হতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম আলো থেকে বঞ্চিত হবে । সাংবাদিকতা ভিন্ন ধরনের পেশা । এখানে আর্থিক লাভের চেয়ে দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ । সেই দায়িত্বটি কেউ আমার আপনার কাঁধে তুলে দেয়নি । নিজেই আমরা নিয়েছি।

সুতরাং এই পরিচয়ের ভাল – মন্দের দায়িত্বও সংবাদকর্মীকেই নিতে হবে , অন্য কেউ নেবেনা । নতুন কোন সংবাদপত্রের অনুমোদন মানেই বিরাট এক দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেকে নিবেদিত করা । এই দায়িত্বটি পালনের জন্য ‘ মুলধারার মানসিকতা ‘ ধারন করতে পারলে নিশ্চয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে সাধারন মানুষ , সমাজ , দেশ উপকৃত হবে । আমাদের চলমান জীবন থেকে শিক্ষা আহরণ করেই মুল শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে । তাহলেই লেখা সহজ হবে , সমস্যার জায়গাগুলো বুঝতে সহজ হবে , সর্বোপরি সংবাদপত্র প্রকাশের উদ্দেশ্যও সফল হবে ।

 

(লেখক : গণমাধ্যমকর্মী ও সাবেক সভাপতি, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Bengali Bengali English English Russian Russian
error: Content is protected !!
Bengali Bengali English English Russian Russian
error: Content is protected !!