শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
শিরোনামঃ
ভাষা শহীদ দিবসে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ পেল ঈশ্বরদীর সাড়ে তিন হাজার মানুষ সিলেটের গোয়াইনঘাট হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচন ঘিরে ঈশ্বরদীর রাজনীতির মাঠ এখন সরগরম  বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব পালিত  ভ্যালেন্টাইন স্পেশাল: প্রথমবার একসঙ্গে ভালোবাসা দিবস উদযাপন করবে রিজু-হারলি দম্পতি মানিকনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ভ্রমণ নিজের জন্য একটি বিনিয়োগ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে পাকশী রিসোর্টের মালিকানা দাবির অভিযোগ   শখের বসে ছাদ বাগান করে সফল উদ্যোক্তা ঈশ্বরদীর জান্নাতুল ফেরদৌস যুথি পাবনা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দেওয়ান মজনুল হক সভাপতি-আহাদ বাবু সম্পাদক নির্বাচিত

একদিন পর রূপপুর রেলস্টেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ঈশ্বরদী, পাবনা প্রতিনিধি / ১৮৪ বার পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২:১২ অপরাহ্ণ

দেশের মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারী মালামাল ও যন্ত্রপাতি রেলযোগে পৌঁছাতে ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নে নির্মিত হয়েছে নতুন রেলওয়ে স্টেশন। যার নামকরণ করা হয়েছে ‘রূপপুর স্টেশন’ নামে। ২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেললাইনসহ প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঈশ্বরদী-রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রেললাইন প্রকল্পটি আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি আলোর মুখ দেখবে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার জানান, বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণভবন থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঈশ্বরদী-রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত রেলপথ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

তিনি আরও বলেন, এই রেলপথের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভারী যন্ত্রপাতি, মালামাল ছাড়াও ঈশ্বরদী ইপিজেডের প্রস্তুতকৃত মালামাল কন্টেইনারের মাধ্যমে কম খরচে, কম সময়ে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষ পণ্যবাহী ট্রেনে সহজে মালপত্র আনা নেওয়া করতে পারবে। এতে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন আসবে, জাগরিত হবে ঈশ্বরদীসহ উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি।

ঈশ্বরদী-রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রেলপথের প্রকল্প পরিচালক পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আসাদুল হক বলেন, রেলবান্ধব বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলওয়ের উন্নয়নে এগিয়ে এসেছেন। এই প্রকল্প সম্পূর্ণ চালু হলে রেলওয়েতে রাজস্ব আয় বাড়বে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ঈশ্বরদী ইপিজেড রেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের শিল্প-প্রতিষ্ঠানের মালামাল পণ্যবাহী ট্রেনের মাধ্যমে আনতে চান। আগে ঈশ্বরদী থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইন ছিল। এ প্রকল্পের আওতায় মিটারগেজ-ব্রডগেজ (ডুয়েল গেজ) কানেক্টিভ হয়ে গেল। পণ্যবাহী ট্রেনে মোংলা বন্দর থেকে ব্রডগেজ ট্রেন চলে আসতে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মিটার গেজ ট্রেন আসতে পারবে। এতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মর্যাদা অনেক বেড়ে গেল।

রেলওয়ের প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের পহেলা এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ প্রকল্পের কর্মযজ্ঞ চলে। ভারতের জিপিটি ও বাংলাদেশের এসইএল ও সিসিএল অংশীদারত্বের ভিত্তিতে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ঈশ্বরদী বাইপাস টেক অফ পয়েন্ট থেকে পাকশীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার ব্রডগেজ-মিটারগেজ (ডুয়েল গেজ) রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও ১৩টি লেবেল ক্রসিং গেট, ‘বি’ শ্রেণীর একটি সুদৃশ্য স্টেশন ভবন, একটি প্লাটফর্ম, সাতটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের দু’পাশের লুপলাইন সংস্কার, প্লাটফর্ম উঁচু করার কারণে একসাথে ১৮টি ট্রেন ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে এসে দাঁড়াতে পারবে। সাবেকি রিলে-ইন্টারলকিং পদ্ধতিকে বাদ দিয়ে কম্পিউটারইজড পদ্ধতি চালু হয়েছে। ফলে সুইচ কেবিনে বাটন চাপলেই ট্রেন আসা-যাওয়ার রেললাইনটি সহজেই কিয়ার হবে। এখন আর কোনো ট্রেন আউটারে এসে লাইন কিয়ারের জন্য অপো করতে হবে না। মালপত্র আনা-নেওয়ার জন্য ট্রেনের যে লোকোমোটিভ ইঞ্জিন আসবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঈশ্বরদী লোকোমোটিভ কারখানায় ডকপিট নির্মিত হয়েছে। ডকপিটে একই সময়ে একটি মিটারগেজের ইঞ্জিন, নয়টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে।

পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ বীরবল মণ্ডল বলেন, উদ্বোধনের পর প্রকল্পটি সমতায় আসলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। ঈশ্বরদী বাইপাস টেক অফ পয়েন্ট থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার রেলপথে সহজে শুধু মালামাল-যন্ত্রপাতি পৌঁছানোই নয়, এলাকায় পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হলে উত্তর জনপদের ব্যবসা-বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন আসবে। স্বল্প সময়ে, অল্প খরচে এ অঞ্চলের মানুষ পণ্যবাহী ট্রেনে করে সহজে মালপত্র আনা নেওয়া করতে পারবে। সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার খুলে যাবে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য করা মানুষদের।

পাকশী বিভাগীয় অফিস সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই পাকশীতে তৎকালীন ‘সাঁড়াঘাট’ রেলস্টেশনের সন্নিকটে নির্মিত হয়েছিল বরফকল। বরফ পরিবহনের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ সেসময় ঈশ্বরদী-পাকশী রুটে একটি রেললাইন নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে পাকশী বিভাগীয় রেলের সদর দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য ওই রেলপথ দিয়ে বিনা পয়সার ‘পাইলট’ ট্রেনের ব্যবস্থা ছিল। রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও ওই ট্রেনে সাধারণ মানুষও বিনা পয়সায় ট্রেনে চলাচল করতো। নব্বইয়ের দশকে তৎকালীন বিএনপি সরকার ‘পাইলট ট্রেন’ চলাচল বন্ধ করে দেয়।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়েতে দৃশ্যমান উন্নয়ন শুরু হয়। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে দীর্ঘ ২৬ বছর পরে ‘পাইলট ট্রেন’ চলাচল করার রুটের পরিত্যক্ত রেললাইনগুলো সরিয়ে নতুন করে ঈশ্বরদী-রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প পর্যন্ত রেলপথসহ সংস্কার শুরু হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Bengali Bengali English English Russian Russian
error: Content is protected !!
Bengali Bengali English English Russian Russian
error: Content is protected !!